লড়াই করে হার এড়াল মুক্তিযোদ্ধা

নায়ক হতে কয় মুহূর্ত দরকার হয়? খলনায়ক বনতে? বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামকে সাক্ষী মানলে উত্তরটা সহজ। মাত্র ১১ মিনিট। মাত্র এটুকু সময় যথেষ্ট হলো আজ দুজনের গায়ে বিপরীতমুখী ট্যাগ লাগিয়ে দিতে। মজার ব্যাপার দুজনই পরেছেন একই দলের জার্সি। মুক্তিযোদ্ধার হয়ে বাল্লো ফামুসা ও ইয়োসুকে কাতোর এমন বিপরীত গল্পের শেষটাও সমতায়। ২১ মিনিটে দশ জনের দল হয়ে পড়া মুক্তিযোদ্ধা রহমতগঞ্জের সঙ্গে ম্যাচটি ২-২ সমতায় ম্যাচ শেষ করল আজ।

ইদানীং ফুটবলে গোলরক্ষকদেরও বল পায়ে ভালো বানানোর চেষ্টা চলছে। ম্যাচের নবম মিনিটে তেমনই একটা চেষ্টা হলো। রহমতগঞ্জ অধিনায়ক মানডে ওসাগি ব্যাকপাস দিলেন গোলরক্ষক আরিফুল ইসলামকে। তাঁকে প্রেস করতে গেলেন বাল্লো ফামুসা। চাপে পড়ে মানডেকে বল ফেরত দিলেন আরিফ। মানডে সে বল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মুহূর্তে বল কেড়ে নিলেন জাপানি ফরোয়ার্ড কাতো। শেষ চেষ্টা হিসেবে ফাউল করলেন মানডে, পেনাল্টি।
নেইমারের মতো আলতো পায়ে এগিয়ে এসে পেনাল্টি নিলেন ফামুসা। দুর্বল সে শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকালেন আরিফুল। গোলরক্ষককে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল ক্রসবারও। ম্যাচের ৯ মিনিটেই ভিলেন বাল্লো।
কিন্তু অমন ট্যাগ লাগিয়ে রাখতে ভালো লাগছিল না ফামুসার। ১৪ মিনিটে রহমতগঞ্জ রক্ষণই সহযোগিতা করল তাঁকে। পরপর দুবার সুযোগ পেয়েও বল ক্লিয়ার করতে পারেনি রহমতগঞ্জ। কাতোর মতো সৃষ্টিশীল ফুটবলার এর সুযোগ না নিয়ে পারেন? ডি বক্সে এমন এক পাস দিলেন, আশে পাশে ৪/৫ জন ডিফেন্ডার থাকা সত্ত্বেও পুরো ফাঁকা হয়ে গেলেন ফামুসা। ডান পায়ের শট জালে (১-০)।
৬ মিনিট পরেই আবারও কাতো-ফামুসা জুটির ঝলক। এলোমেলো বল ক্লিয়ারের চেষ্টা রহমতগঞ্জের, সে সুযোগে থ্রু বল দিলেন কাতো। আবারও গোলরক্ষককে একা পেয়ে গেলেন ফামুসা। ব্যবধান বাড়ল মুক্তিযোদ্ধার (২-০)। দুটি গোল করে নায়ক ফামুসা, তিনটি সুযোগ সৃষ্টি করে কাতোও তাই।
পরের মিনিটেই সব বদলে গেল। মাঝ মাঠে বল থাকা অবস্থায় মাঠের এক প্রান্তে তর্কে জড়ালেন কাতো ও রাকিবুল ইসলাম। কাতোর ধাক্কায় রাকিব পড়ে যাওয়ার পরই ব্যাপারটা নজরে এল রেফারির। লাইন্সম্যানের সহযোগিতায় পরিস্থিতি বুঝে রাকিবকে হলুদ কার্ড দিলেন, আর কাতোর ভাগ্যে জুটল লাল।
দশ জনে পরিণত হওয়ার মুক্তিযোদ্ধার দুর্বলতার সুযোগ নিতে মাসুদ রানাকে তুলে বদলি নামানো হলো চৌমরিন রাখাইনকে। কিন্তু প্রথমার্ধে সে সুযোগ এল না।
কাতোর খলনায়ক বনা নিশ্চিত হলো দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। যার পুরোটাই সোহেল রানার গল্প। ৫২ মিনিটে সোহেলের এনে দেওয়া কর্নার থেকে বল ফিরিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক হিমেল। সেটা বক্সের বাইরে থাকা সোহেলের সামনে পড়তেই জোরালো শট। লাফিয়ে ওঠা গোলরক্ষকের হাতের ওপর দিয়ে বল জালে (২-১) ! যদিও গোলরক্ষকের সঙ্গে সেটে থাকা রহমতগঞ্জ স্ট্রাইকার সিও জুনাপিওরও হালকা ভূমিকা আছে এ গোলে।
ম্যাচটা পুরো ঘুরে গেল ৫৬ মিনিটে। এবারও সেই সোহেল। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বিপজ্জনক ভাবে ঢুকে পড়ে বাঁকানো এক শট নিয়েছিলেন সোহেল। সেটা পাঞ্চ করে গোলে যাওয়া আটকেছেন হিমেল। কিন্তু ফিরতি বল পড়ল একদম চৌমরিনের সামনে। ডাইভিং হেডটা জালে যাওয়ার আগে ডিফেন্ডার আসিফ হোসেনের পা ছুঁয়ে গেল। ম্যাচে ফিরে এল সমতা (২-২)।
পরের ১০ মিনিটে দুবার এগিয়ে যেতে পারত রহমতগঞ্জ। কিন্তু মূল স্ট্রাইকার সিও জুনাপিওর বাজে বল নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ও ধীর গতি বারবার হতাশ করেছে দলকে। বাঁ প্রান্ত দিয়ে বারবার ভয় দেখিয়েছেন সোহেল রানা কিন্তু জুনাপিও বা চৌমরিন গোলেই শট রাখতে পারছিলেন না।
খেলার ধারার বিপরীতে ৭৮ মিনিটে মুক্তিযোদ্ধাকে গোল প্রায় এনেই দিয়েছিলেন সুজন বিশ্বাস। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে সে যাত্রা দলকে বাঁচিয়েছেন গোলরক্ষক আরিফ।
তবে ম্যাচের বাকি সময়টা ব্যস্ত থাকতে হয়েছে অপর প্রান্তের হিমেলকে। কখনো সেভ করে কখনো বা মাটিতে শুয়ে সময় নষ্ট করে দলের হার এড়ানো নিশ্চিত করেছেন এই গোলরক্ষক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *