তদন্ত প্রভাবমুক্ত রাখতে প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে না

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়টি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করছে। এই তদন্ত যাতে প্রভাবিত না হয়, সে জন্য মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না।

জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা বলেছেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, রিজার্ভের চুরি হওয়া টাকা উদ্ধারে কাজ চলছে। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে যখনই কোনো অগ্রগতি হবে, তা সংসদকে অবহিত করা হবে।

4 ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ৩০০ বিধিতে সংসদে রিজার্ভ চুরি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার সরিয়ে নেওয়া হয় ফিলিপাইনসের রিজল কমার্শিয়াল ব্যাংকে।

ওই অর্থ স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইনস সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধার হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক ওই অর্থ উদ্ধারে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে সম্প্রতি একটি মামলা করেছে।

ওই ঘটনার তদন্তে সরকার মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি করে। যার প্রতিবেদন প্রকাশ নিয়ে গত দশম সংসদেও বিভিন্ন সময় দাবি উঠেছিল। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের মাধ্যমে আমাদের রিজার্ভের একটি অংশ শ্রীলঙ্কা ও ফিলিপাইনে পাচার করা হয়।

তারা ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচারের চেষ্টা চালায়। এর মধ্যে পাঁচটি ফলস পেমেন্ট ইন্সট্রাকশনের মাধ্যমে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ট্রান্সফার সম্পন্ন হওয়ার পর নিউইয়ার্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক বাকিগুলো বন্ধ করে দেয়।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে সরকার চুরি হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার, চুরিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যৎ চুরি রোধে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। তিনি দ্রুততার সঙ্গে সরকারকে রিপোর্টও দেন।

পাশাপাশি পুলিশের তদন্ত বিভাগকে অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে। যে কারণে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের রিপোর্টটি ফৌজদারি তদন্ত কার্যক্রমে যাতে কোনো প্রভাব না ফেলে তার জন্য প্রকাশ করা হয়নি।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির বিষয়টি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ। এর সঙ্গে অনেক দেশ জড়িত। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও ফিলিপাইন সরকার তদন্তে নামে।

এর ধারাবাহিকতায় শ্রীলঙ্কা থেকে ২০ মিলিয়ন ও ফিলিপাইন থেকে ১৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনা হয়েছে। বাকি ৬৬ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান আছে। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আমরা মামলা করেছি।’

চুরি যাওয়া রিজার্ভ উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে। এই বিষয়ে ভবিষ্যতে যখনই কোনো অগ্রগতি হবে, তা সংসদকে অবহিত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *